শ্রাবণের ধারায় মুছে গেছে স্বপ্নের আবছা কথাগুলি
নির্বাক আমি, সামনে কোলাহল
টুংটাং করে এগিয়ে চলে দিনের শেষ ট্রামখানি 
পেছন সারিতে নিত্য যাত্রী একাকী আমি  
অসহায় চালকের কপালে বিন্দু বিন্দু জলের ফোঁটা 
নয়নে আকুতি, বেশ মজা লাগে ।
রোজকার রূপকথার বৃত্তান্ত এক ঘেয়ে লাগে 
মাতাল হাওয়ার দল দিশাহারা সাথীর খোঁজে 
অগণিত প্রতিশোধের অনলে বিষাক্ত মন 
ঝিরঝিরে বৃষ্টির মাঝে একজোড়া পাখি 
এক চিরস্থায়ী বাসার খোঁজে ইতিউতি করে 
বেশ মজা লাগে।
ট্রামডিপোর জঞ্জালের মাঝে মশাদের বড়ই উপদ্রব
রাতের ঘুমের নিত্য ব্যাঘাত, কি অসহ্য 
নিবারণ একান্তই দরকার, কিন্তু বলবো কারে
অসহায় চালকের মুখ দেখে সত্যি সত্যি মায়া লাগে।
বিনিদ্র রাত্রির অন্তিমলগ্নে, এক উজালার আগমন 
ক্রমশ এগিয়ে আসে নিকটে, অতি নিকটে 
হাতখানি টেনে নিয়ে এগিয়ে চলে অন্ধকারের দিকে
রাতের গহীন আঁধার উপেক্ষা করে আরও আঁধারের দিকে।
পাখিগুলোর নিত্য কিচির মিচির কানে বাজবে না আর
হাঁটবো না আর উদ্দেশহীন শুনশান ফুটপাথের উপর
সেই ঘুমন্ত কুকুরটির বিদঘুটে ঘেউঘেউ শব্দও বাজবে না কানে   
বনেদি ঘরের সেই ফিটফাট ভদ্রলোকটির লাঠিও আসবে  না উঁচিয়ে 
চোখে পড়বে না ভোরের প্রথম লোকালের রাতজাগা যাত্রীদের নিত্য ব্যস্ততা
মনের কোণে শুধুই শান্তি আর শান্তি, পরম প্রশান্তি।
নাহ!! অনেক বেলা হয়ে গেছে
বিশাল জমায়েত লাশের চতুর্দিকে ভন ভনে মাছিদের 
হয়তো এখুনি আসবে মিউনিসিপালিটির শববাহী রিকসা ভান 
বেওয়ারিশ লাশদের নিয়ে সমস্যার অন্ত নেই 
বেওয়ারিশ বলে কথা, হ্যাপা তো হবেই
কোথাই নিয়ে যাবে কোথাই হবে গন্তব্য, সবই অনিশ্চিত 
পরিচয়হীন এক বেওয়ারিশ লাশ
কোথাই পাবো ঠাই শ্মশানে না শহরের প্রান্তের কবরখানায় 
না ভাসিয়ে দেবে গঙ্গার বহমান স্রোতে  
ভাবতেও বেশ মজা লাগে।