লকডাউন ও মানসিক উদাসীনতা

এডমিন
0
লকডাউন ও মানসিক উদাসীনতা

উৎসব নয় তবুও, সারা দেশ জুড়ে জনগণ  বিগত কিছুদিন যাবৎ সুষ্ঠুভাবে লকডাউন উৎসব পালন করছে। সৌজন্য, বহুচর্চিত কোভিড 19 ভাইরাস। না আছে এর কোনও সুনির্দিষ্ট ওষুধ না আবিষ্কৃত হয়েছে প্রতিরোধ ক্ষমতামূলক টিকা। দিন প্রতিদিন  বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর মহামিছিল বেড়েই চলেছে আর আমরা মুক দর্শক। এই মরণব্যাধি থেকে বাঁচার একমাত্র পন্থা লকডাউন অর্থাৎ সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে একে অন্যের থেকে যত দূরত্বে থাকা। কোভিড 19 এর প্রকোপ থেকে মানুষকে বাঁচানোর জন্য কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। নিন্মস্তরে, পুলিশ, প্রশাসন বদ্ধপরিকর এই মরণব্যাধি থেকে জনগণকে বাঁচাতে, কোথাও কঠোর বলপ্রয়োগ করে তো কোথাও ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালিয়ে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজ্যের সমস্ত মুখ্যমন্ত্রী ও উপ-রাজ্যপালদের সাথে ইতিমধ্যে এই সংবেদনশীল বিষয়ে, বিস্তারিত আলাপ আলোচনা করেছেন। যে নির্যাস আমাদের সম্মুখীন, তা হলো অন্ততঃ আরও দু সপ্তাহের জন্য লকডাউন বাড়ানো অর্থাৎ 21 দিনের পর আরও 14 দিন ঘরে বসে থাকা। সর্বনাশা মহামারীর হাত থেকে বাঁচতে, এ ছাড়া আর কোন উপায় নেই।

বিগত কয়েক দিন ধরে চলা লকডাউন জনগণের মন-মস্তিষ্কে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে সকলেই চিন্তিত ভবিষ্যৎ নিয়ে, ভয় ও হতাশা থেকে মনে গ্রাস করছে উদাসীনতার বাদল। নেতিবাচক বিচার ধীরে ধীরে মস্তিষ্কের কোণে কোণে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেছে। অস্বাভাবিক কিছুই নয়, বরং এটাই স্বাভাবিক।

ব্যবসাপত্তর লাটে উঠে গেছে, কাজকর্ম পুরোপুরি স্তব্ধ, চাকুরী হারানোর ভয়, উপার্জনের সব রাস্তা বন্ধ, সামনে শুধু অন্ধকারের বাদল। অদূর ভবিষ্যতে আর কি বিপদ কপালে আছে, বলা খুবই মুশকিল। অর্থাৎ কোরোনা মহামারীর সুদূরপ্রসারী ফল বিরূপ। এমন পরিস্থিতিতে সুস্থ থাকাটাই আমাদের সকলের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।  মানসিক চাপের জন্য নানা ধরনের রোগব্যাধির লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

এই বেমান পরিস্থিতিতে নিজেকে শান্ত ও স্বাভাবিক রাখতে সর্বপ্রথমে মাথায় আসে সোশ্যাল মিডিয়ার কথা যেমন হটসআপ, ফেসবুক ও অন্যান্য লাইফলাইনগুলো। গঠনমূলক, রুচিসম্মত অজস্র ভালো ভালো উপাদান ও উপকরণের সুবিশাল ভান্ডার। সর্বাগ্রে গঠনমূলক বিষয়ে আলাপ আলোচনা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক তরঙ্গ সৃষ্টি করে ও মনের জন্য সঞ্জীবনী। ঘরবন্দি থাকাটাকে ইতিবাচক ভাবে নিলেই কেল্লা ফতে। বাস্তবিক জীবনে নানা ব্যস্ততার কারণে যে সব ইচ্ছেগুলো অপূর্ণ থেকে গেছে সেগুলো সহজেই পূরণ করা যায় যেমন পরিবারের সদস্যদের সাথে সময় কাটানো, তাদের সাথে খেলা করা, খুনসুটি করা, পেন্টিং করা, বাচ্চাদের পড়ানো ও আরও অনেক কিছুই..। একটি বিশেষ বিষয়ে আলোকপাত করা অতি আবশ্যক -- ঘুম!! বাল্যকালের সাধের ঘুম। আমরা  দৈনন্দিন রোবোটিক জীবনের যাঁতাকলে পড়ে ঘুমোতে, হাঁসতে-হাঁসাতে, খেলতে-খেলাতে ও আরও অনেক কিছুই ভুলে গেছি, সেগুলো নিয়ে একটু আধটু পরীক্ষা নিরীক্ষা করা যেতেই পারে।

মনোবিজ্ঞানের তত্ত্ব অনুসারে, মানসিক ব্যাধির সবচেয়ে বড় ওষুধ, নিজেকে নতুন গঠনমূলক কাজে ব্যস্ত রাখা যেমন ঘরের টুকটাক কাজ, যোগ ব্যায়াম, টবের গাছ-গাছালির যত্ন নেওয়া, আধ্যাত্মিক, ধার্মিক ও ও অন্যান্য বইপত্রও পড়া ইত্যাদি ইত্যাদি । আর হ্যাঁ, গরীব, অসহায় মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানো নিঃসন্দেহে মনে শান্তির খোরাক জোগায় ।নেতিবাচক চিন্তাভাবনা, মানসিক চাপ থেকে মুক্ত করতে তাৎক্ষণিক দেশি টোটকা। অর্থাৎ মনের মধ্যে তৈরি প্রকাশ ও তেজকে সঠিক দিশা দেখাতে সাহায্য করে।

আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস এই মহামারী কোরোনার বিরুদ্ধে জয় শুধু সময়ের অপেক্ষা। ধৈর্য জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষক, ধৈর্য ধরা ছাড়া আর কোন উপায় নেই কেননা প্রতিটি অন্ধকারছন্ন রাতের শেষে এক নতুন ভোরের উদয় হয়, নতুন প্রকাশ নিয়ে আর জোয়ার ভাটার শেষেই তো প্রকৃতি খুঁজে পায় প্রাণের অস্তিত্ব। নিশ্চিত উদাসীনতার মেঘও কেটে যাবে একদিন। ফিরে আসবে প্রকাশ জীবনের প্রতিটি আঙিনায়।

** লেখক এম ওয়াসিক আলি, একজন আইটি বিশেষজ্ঞ।
ভারত সরকারের অধীন রাষ্ট্রীয় জলবিদ্যুৎ নিগমে কর্মরত।

Post a Comment

0Comments
Post a Comment (0)

#buttons=(Accept !) #days=(20)

এই ওয়েবপেজটির অভিজ্ঞতা উন্নত করতে এই ওয়েবসাইট কুকি ব্যবহার করে। বিস্তারিত
Accept !