বিশ্বাস করি, সত্যও
কর্কশ কাকদের দেখা মেলে অহরহ
গ্রামে, গঞ্জে, শহরে সর্বত্রই
দিনের উজ্জ্বলতায়, রাতের অন্ধকারে,
কাঠফাটা রৌদ্রে, শীতল জ্যোৎস্নার পরশে
বর্ষণের আগে, বর্ষণের শেষে
ঝমঝম বৃষ্টির প্রতিটি ক্ষণে ক্ষণে
সর্বত্র, সর্বক্ষণে দেখা মেলে।
যখন কুঁড়ে ঘরের চালে বসে
একটি দাঁড়কাক কা-কা করে
বিরক্তি প্রকাশের সময় না দিয়েই
হঠাৎ করেই ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামে
কেমন অনুভূতি হতে পারে ...
যখন ঝুপ করে সন্ধ্যা নামে
নিকষ কালোর মিছিলে ছেয়ে যায় ঘর-দুয়ার
উঠোনে জ্বলজ্বল করে দাঁড়কাকের দুটি চোখ
কেমন অনুভূতি হতে পারে ...
যখন ছিপ ফেলে
একদৃষ্টে ফাতনার দিকে নজর থাকে
কাকের ডাকে মনোসংযোগে ব্যাঘাত ঘটে
আর হঠাৎই ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামে
কেমন অনুভূতি হতে পারে ...
চলতে চলতে হঠাৎ যদি
মেঘের বুক চিরে শহরের অলিগলিতে বৃষ্টি নামে
নিমেষে উবে যায় ধোঁয়া ছাড়ানো যানগুলি
বৃষ্টির তোড়ে দুমড়ে মুচড়ে যায় শহুরে অহংকার
আর অতল সমুদ্রে খাবি খায় বিষময় শহুরে বাতাস
কেমন অনুভূতি হতে পারে ...
দুপুরের পর অকাল বর্ষণে যদি
অফিস, আদালত কার্যালয়ে তালা ঝোলে
নিশ্চিত উল্লাসে ফেটে পড়বে ছাপোষা শহুরে
হৃদস্পন্দন থেমে যাবে দূষণের
হাঁফিয়ে উঠবে অফিস ফেরত লোকগুলো
নির্ধারিত সময়ের আগেই সশরীরে ঘরে ঢুকে
কেমন অনুভূতি হতে পারে ...
গ্রামগঞ্জের একমাত্র কাঁচাপাকা সড়কে
লোকদের ভিড় চোখে পড়বে
শহরের বিতাড়িত যানগুলো দূষণের মাত্রা ছড়াবে
হা-ভাতে লোকগুলো গোগ্রাসে সে দৃশ্য গিলতে ব্যস্ত
এমন সময় যদি ঝিরঝির বৃষ্টি ঝরে
কেমন অনুভূতি হতে পারে ...
অনুভূতিগুলো বড্ড বেহায়া
স্থান কাল পাত্রের তোয়াক্কা না করেই
উল্লাসে ফেটে পড়ে মধ্যবিত্তের রোজনামচা
আর তখনই যদি দাঁড়কাকটি ডেকে ওঠে
আর হঠাৎ করেই যদি ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামে
কেমন অনুভূতি হতে পারে...
ঈশ্বরীয় অনুভূতি না কাকতলীয় অনুভূতি।।
