**ছোট গল্প**
#বোঝ_ঠ্যালা
আমাদের বাড়ির বাঁধা ধরা কাজের মাসি মানে আমাদের প্রিয় মাসিমা, বেশ কিছুদিন ধরেই মায়ের সামনে একটা ছোট রঙিন টিভি কিনে দেওয়ার জন্য ঘ্যানর ঘ্যানর করছে। মায়ের খুব ন্যাওটা, যথারীতি মাঝে মাঝেই মায়ের আশীর্বাদ বর্ষিত হয়।
হঠাৎ করে টিভির কি দরকার?
দিদি বাচ্চারা টিভির জন্য বায়না ধরেছে, কোনও কথা শুনছে না, ওদের অত্যাচারে অতৃষ্ঠ হয়ে গেছি, ছোটমোটো একটা কিনে দাও, মাস মাইনে থেকে কাটিয়ে দেবো।
মোক্ষম মাস্টারস্ট্রোকে মা কুপোকাত, আমার দিকে তাকাতেই বুঝলাম পকেট খালি করতে হবে। সদ্য চাকরি পেয়েছি, মা ও মাসির আবদারে পকেট খালি। আমি কটমট করে মাসির দিকে দেখার সঙ্গে সঙ্গে উনি নজর ঝুঁকিয়ে নিলেন। আমাকে কোলেপিঠে মানুষ করেছেন, মায়ের কড়া নির্দেশ! সুতরাং উনাকে কিছুই বলা যাবে না।
অগত্যা বাজার থেকে 18 ইঞ্চির রঙিন টিভি কিনে দিলাম।
কিছুদিন পরে, মাসিমা কাঁচুমাচু হয়ে মাকে বলল- দিদি টিভিটা ফেরত দেওয়া যাবে না?
হঠাৎ আবার কি হল যে টিভি ফেরত দিতে চাস, তোর কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে? কি আবোল তাবোল বকছিস, বিক্রি হওয়া টিভি কেউ ফেরত নেয় না।
মাসিমা গালে হাত দিয়ে বসে পড়লেন। মানে বিষয়টি খুব গম্ভীর।
থাকতে না পেরে মা জিজ্ঞেস করলো- কি সমস্যা খুলে বল।
কি আর বলবো দিদি, টিভি দেখার পর বাচ্চাদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে, এখন স্কুলে ভর্তি হতে চায়, পড়াশুনা করতে চায়, ঘরে বসে জরির টুকটাক কাজ করে মাসে দু-চারশো টাকা হাতে আসে, এখন ধমক দিচ্ছে ওদের দিয়ে কাজ করালে পুলিশে খবর দেবে। আমিও চাই ওরা পড়াশুনা করে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে ভালো কিছু করুক, কিন্তু আমাদের স্বামী স্ত্রীর রোজগারে কোনও রকমে সংসার চলে, পড়াবো কোথেকে?
বুঝতে পারছি, মায়ের দয়ালু মন আইসক্রিমের মত
পিঘলে যাচ্ছে, সাতপাঁচ না ভেবেনির্দেশ আসার আগেই বললাম ঠিক আছ মাসীমা চিন্তা করো না, পড়াশোনার দায়িত্ব আমিই নিচ্ছি.......।
মাসীমার খুশির শেষ নেই......চোখ ছলছল করছে, এতো তাড়াতাড়ি আশীর্বাদ থামার কোনও লক্ষণ নেই।
Copyright@:https://mwasiq.blogspot.com
