বুদ্ধির খেলা

এডমিন
0
বুদ্ধির খেলা


   
মানিকবাবু শহরের অন্যতম নামীদামি স্কুলের সর্বসেবা। স্কুলে প্রায় হাজারের বেশি ছাত্রছাত্রী। আগামী শনিবার স্কুলের বার্ষিক অনুষ্ঠান, এবারও পূর্বের ন্যায় জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন প্রায় শেষের দিকে। 

মানিকবাবুর ধর্মপত্নী মানে শ্রীমতিজী, টেনেটুনে উচ্চ মাধ্যমিককের গন্ডী পেরিয়েছেন, কিন্তু বহু চেষ্টা করেও গ্রাজুয়েট হতে পারেননি। বাবার অঢেল টাকা, মানিকবাবুর মত দূরদর্শী মানুষের বুঝতে মোটেও বিলম্ব হয় নি, যথাসময়ে প্রেমালাপ ও বিয়ে। পত্নীর নৌকায় পা দিয়েই সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে সাধারণ গ্রাম্য পরিবারের সন্তান থেকে আজ শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তি। শ্রীমতীর সমস্ত বিষয়ে নাক গলানোর অভ্যাস, অবিশ্যি মানিকবাবু এ বিষয়ে বিশেষ গা করেন না। শ্রীমতি ক্লাব, কিটিপার্টি, সোশ্যাল এক্টিভিটি ইত্যাদি  নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, তবে স্কুলের কাজকর্মেও যথেষ্ট সক্রিয়,নিজের ওজন বোঝাতে মাঝে মধ্যেই স্কুলে হাজির হন, স্কুলে একটি বিশেষ পদও অলংকৃত করেন। ছাত্রছাত্রীদের সময় সময়ে খুব ভালো অনুপ্রেরণা মূলক ভাষণ দেন। তবে বেশিক্ষণ চললে, আলফাল একটু বেশিই বকেন, মাইক হাতে নিলেই মানিকবাবু সজাগ হয়ে যান এবং ভাষণপর্বটি খুব গম্ভীর ভাবে ধ্যান দেন, শ্রীমতীর বিদ্যের যা বহর! হিতে বিপরীত না হয়ে যায়।

পত্নী অনেকক্ষণ ধরে খুসখুস করছিলেন, আর বেশিক্ষণ না থাকতে পেরে মানিকবাবুকে জিজ্ঞেস করলেন  প্রধান অতিথি কথা। মানে সোজা কথায়- শহরের কোন উদ্যোগপতিকে প্রধান অতিথি হিসেবে  আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

মানিকবাবু ফাইনাল টাচ দিতে ব্যস্ত ছিলেন, পুরু চশমার উপর দিয়ে শ্রীমতীকে একবার দেখলেন ও কথা খরচ না করে পাশে রাখা একটি ছাপানো আমন্ত্রণ পত্র সামনে বাড়িয়ে দিলেন। 

শ্রীমতী খুঁটে খুঁটে পড়ার শেষে আশ্চর্য হয়ে বললেন- প্রধান অতিথি সেন্ট মার্টিন স্কুলের প্রিন্সিপাল!! তোমার কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে?

সাধারণত: শহরের বড় কোনো উদ্যোগপতির নাম অলংকৃত করা হয় প্রধান অতিথির জন্য, বদলে জোটে ভদ্রস্থ ডোনেশন,  সেখানে সেন্ট মার্টিন স্কুলের প্রিন্সিপাল! মিশনারী স্কুলের প্রিন্সিপাল!! কি দেবে? তারা তো শুধু ডোনেশন নেন, দেন না!!!

শ্রীমতীর মাথায় কিছুই ঢুকলো না, আমতা আমতা করে মানিকবাবুকে কিছু জিজ্ঞেস করার কথা ভাবছিলেন। ব্যাপারটা আঁচ করে মানিকবাবু মুচকি হেসে বললেন, কি কিছুই বুঝলে না, তাই তো?

শ্রীমতী বোকা বোকা হেঁসে আমতা আমতা করে মানিকবাবুর উত্তরের অপেক্ষায় চেয়ে রইলেন।

মানিকবাবু মুচকি হেসে বললেন - সামান্য ইনভেস্টমেন্টই ভাবো!

ইনভেস্টমেন্ট- আর হেঁয়ালি করতে হবে না, একটু খুলে বলবে কি? 

মানিকবাবু চুপ,  শ্রীমতীর পারা চড়তে লাগলো। সব বিষয়ে এতো সাসপেন্স আর ভাল্লাগে লাগে না, বলবে না চলে যাবো? বলেই শ্রীমতি উঠে পড়লেন।

আরে বসো, বলছি বলে মানিকবাবু শ্রীমতিকে টেনে বসালেন। জাস্ট দু মিনিট, কাগজপত্তর গুলি গুছিয়ে নিই।

কাজকর্ম শেষে মানিকবাবু বললেন, ইনভেস্টমেন্ট গো ইনভেস্টমেন্ট! সত্যি বলছি। সামনে বছর আমাদের হাঁদারাম ও তোমার বোনের দুই ছেলেমেয়েদের ভর্তি করাতে কাজে আসবে। তোমার যা গুণধর সন্তান, নিজের স্কুলে পড়লে কিছুই করতে পারবে না, তবে ক্লাসেও ছড়ি ঘোড়াবে! হম্বিতম্বি করবে, ভয় ডর থাকবে না, কিন্তু অন্য স্কুলে পড়লে অনুশাসনে থাকবে। সেন্ট মার্টিন ছাড়া কি আর অন্য কোনও স্কুলের নাম ভাবতে পারো?

শ্রীমতী গদগদ।

মানিকবাবু পুনঃ বলে চললেন--বদলে অন্য তিনটে বাচ্চাকে আমাদের স্কুলে ভর্তি করা যাবে। তাছাড়া ভাবো, সেই স্কুলের ফিস, আমাদের স্কুলের হিসেবে তিন ভাগের একভাগ মাত্র, মানে একটার ফিসে তিন-তিনটে বাচ্চা পড়বে.....আর ক্লাস ফাইভ থেকে বারো ক্লাস পর্যন্ত কত টাকা ব্যয় হবে আর বদলে কতো টাকা আয় হবে ...........কিছু বুঝলে?

শ্রীমতীর ঠোঁটের কোণে স্মিত হাঁসি যেন উপচে পড়ছে......! নিজের ঘাগ স্বামীর উপর শ্রদ্ধা ও ভক্তি আরও বেশ কয়েকগুণ বেড়ে গেল।

Post a Comment

0Comments
Post a Comment (0)

#buttons=(Accept !) #days=(20)

এই ওয়েবপেজটির অভিজ্ঞতা উন্নত করতে এই ওয়েবসাইট কুকি ব্যবহার করে। বিস্তারিত
Accept !